বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিকের শেষ ধাপের শ্যুটিং শুরু হচ্ছে আজ। মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর পূর্ণদৈর্ঘ্য বায়োপিকটি পরিচালনা করছেন ভারতের খ্যাতিমান পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। ছবির শ্যুটিং শেষ করতে গত বুধবার ঢাকায় এসেছেন শ্যাম বেনেগাল। সঙ্গে রয়েছে তার টিম। সিনেমাটির বাংলাদেশ অংশের লাইন প্রডিউসার মোহাম্মদ হোসেন জেমি বলেন, ‘আজ থেকে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটিতে “বঙ্গবন্ধু” বায়োপিকের শ্যুটিং শুরু হবে।’ এর আগে মুম্বাইয়ের দাদা সাহেব ফিল্ম সিটি, গুরগাঁও ফিল্ম সিটিসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ধানম-ির ৩২ নম্বরের বাড়ি, টুঙ্গিপাড়ার গ্রামের বাড়ির আদলে সেট সাজিয়ে সিনেমাটির দৃশ্য ধারণ করা হয়। এ ছাড়া কিছুদিন আগে ভারত থেকে সিনেমাটির একটি টিম বাংলাদেশে আসে। সে সময় তারা এখানকার শ্যুটিংস্পট এবং শ্যুটিংয়ের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে। তাদের মূল্যায়নের পর এবারই প্রথম বাংলাদেশে সিনেমাটির শ্যুটিং শুরু হচ্ছে।
দীর্ঘ বিরতির পর ‘বঙ্গবন্ধু’র বায়োপিকের শেষ কিস্তির কাজ শুরু হচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক নিয়ে সারা দেশের তারকা, কলাকুশলীদের ভেতরেই আলাদা কৌতূহল রয়েছে। বায়োপিকে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করছেন আরিফিন শুভ। সিনেমাটির শ্যুটিং শুরুর দিন থেকেই অংশ নিচ্ছেন শুভ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অংশের শ্যুটিং শুরুর দিন থেকেই আমি অংশ নিচ্ছি। এর আগে আমাকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছিল। এমনও বলা আছে, আমাকে আগামী ডিসেম্বর মাস অবধি কাজ করতে হতে পারে।’ শুভ আরও বলেন, ‘ডিসেম্বরে মিশন এক্সট্রিম ছবিটি রিলিজ পাচ্ছে। ‘বঙ্গবন্ধু’ বায়োপিকের এ কাজটির জন্য ওই ছবিটির সব ক্যাম্পেইনেও আমার থাকা সম্ভব হচ্ছে না।’
আরিফিন শুভ প্রথম দিন থেকে শ্যুটিংয়ে অংশ নিলেও শেখ হাসিনা চরিত্রে রূপদানকারী চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া, খালেদা জিয়া চরিত্রের অভিনয় করা এলিনা শাম্মিসহ অন্য তারকারা ডিসেম্বর থেকে শ্যুটিংয়ে যোগ দেবেন। এলিনা শাম্মি বলেন, ‘কত দিন শ্যুটিং হবে, এটা নিয়ে আসলে আমি তেমন কিছু জানি না। এটাই শেষ লট কি না, তা-ও জানি না। তবে আমি ৬ ডিসেম্বর থেকে শ্যুটিংয়ে অংশ নিচ্ছি।’
অন্যদিকে করোনার সময় ভারতে শ্যুটিং করেন নুসরাত ফারিয়া। দেশের লোকেশনে তার অংশের কাজগুলো করবেন ডিসেম্বরে। নুসরাত ফারিয়া বলেন, ‘শিডিউল অনুযায়ী ৫ ডিসেম্বর থেকে আমার সেটে থাকার কথা। সেভাবেই আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ ছবিটির শ্যুটিং শুরুর সময়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রূপদানকারীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে ফারিয়া বলেন, ‘আমার জীবনের সেরা কিছু মুহূর্ত ছিল সেটি। আর এ ছবিটি নিয়ে কোথাও কথা বলতে গেলেও আমার নার্ভাস লাগে। ভয়ও লাগে যে কী বলতে কী বলে ফেলি! হয়তো জীবনে কোনো পুণ্য করেছিলাম বলেই এমন অসাধারণ একটি কাজের সুযোগটা পেয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি নিয়ে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফারিয়া বলেন, ‘আমি যখন প্রথম তাকে দেখি, এত বড়মাপের একজন ব্যক্তিত্ব অথচ তার সাবলীলতা দেখে মনে হয়েছিল আমার খুব আপন, খুব চেনা কেউ। একটু পরামর্শ চাইলাম তার কাছে। সবার সামনে তিনি চিরচেনা হাসি দিয়ে বললেন, “আমার কিছু বলার নাই। শুধু যা করবা আত্মবিশ্বাস নিয়ে করবা। সুন্দর করে কাজটা শেষ করো। অপেক্ষায় থাকব আমি।”’
২০১৯ সালে সিনেমাটির শ্যুটিং শুরু হওয়ার কথা থাকলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুরু হয় শ্যুটিং। সবকিছু ঠিক থাকলে দুই দেশের পরিকল্পনা রয়েছে আগামী বছর সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার। সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা ও প্রার্থনা ফারদিন দীঘি (ফজিলাতুন নেছা মুজিব), খায়রুল আলম সবুজ (লুৎফর রহমান), দিলারা জামান (সাহেরা খাতুন), সায়েম সামাদ (সৈয়দ নজরুল ইসলাম), রিয়াজ (তাজউদ্দীন আহমদ), শহীদুল আলম সাচ্চু (এ কে ফজলুল হক), রাইসুল ইসলাম আসাদ (আবদুল হামিদ খান ভাসানী), গাজী রাকায়েত (আবদুল হামিদ), তৌকীর আহমেদ (সোহরাওয়ার্দী), সিয়াম আহমেদ (শওকত মিয়া), মিশা সওদাগর (জেনারেল আইয়ুব খান) প্রমুখ।